পাহাড়সম বৈষম্যে শৃঙ্খলহীন সিলেটের প্রান্তিক অঞ্চলের জনপদ

a

মহি উদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাহাড়সম বৈষম্যে শৃঙ্খলহীন অবস্থায় চলছে সিলেটের প্রান্তিক অঞ্চলের জনপদ। নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন উপজেলা কর্মকর্তারা। উপজেলায়ও কি এসে জেলা প্রশাসক দেখবেন?
সিলেট নিয়ে নানান বৈষম্য অনিয়ম এবং শৃঙ্খলহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন চরমে, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে ফুঁসে উঠছে জনতা, সে’মুহুর্তে সিলেটের কর্মঠ জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম এসব অনিয়মে নিজে বিস্মিত হয়ে মাঠে ঘাটে নেমে নিরলস কাজ করছেন।
সে’মুহুর্তে প্রান্তিক জনপদের দুরাবস্থা দূর করার দায়িত্বে কি কেউ নেই?
ডিসি সাহেব জেলার সমস্যা ও দেখভালের কাজ করে যাচ্ছেন, অথচ উপজেলার কর্তারা থাকা সত্বেও কাজ চোঁখে দেখছেন না। উপজেলা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে নিয়মিত জেলা শহরে যাতায়াত, তদুপরি সমস্যা চোঁখে ভাসছে না। ডিসি সাহেব এসে তাঁদের কাজ কি করে দেবেন?
সিলেটের অদুরে ২০/২৫ মিনিটের দুরত্বে গোলাপগঞ্জ উপজেলা।
সড়কপথে আসতে পিচঢালা পথের দু’ধার ছেয়ে আছে ঘন জঙ্গলে। সিলেট থেকে আসতে সদর ছেড়েই হিলালপুর ড্রিমল্যান্ড পার্ক থেকেই উপজেলা কার্যালয় বরাবর কমবেশি জঙ্গল আর ড্রেন পরিস্কার করা ময়লাসমেত তোলা মাটির ভাগাড়।
কোন কোন স্থানে ৩/৪ থেকে ৬/৮ ফুট উচ্চতার বন লেগে রয়েছে। এমনই দুরাবস্থা যে, বন এসে পিচঢালা সড়ককে সংকুচিত করছে। চলাচলের যানবাহন দেখেও জঙ্গলের জন্য পাশে সরার সুযোগ নেই। ভয়ানক অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুকি যেমন বিদ্যমান, তেমনি কেউ শত্রুতার জেরে কাউকে জোরে এ জঙ্গলে ঢুকিয়ে হত্যা করলেও টের পাওয়া যাবে না, যা আরও ভয়ংকর অবস্থা বিদ্যমান। এ অবস্থা হিলালপুর ড্রিমল্যান্ড পার্কের পর থেকে রফিপুর, নয়ামসজিদ, কিসমত মাইজভাগ, মাইজভাগ, লামাপাড়া, হাজীপুর, এওলাটিকর, ঘনশ্যাম, হয়ে থেমে থেমে উপজেলা অভিমুখী সড়কে বিদ্যমান।
এছাড়াও গোলাপগঞ্জ পৌর সদরের আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পাড়ার রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল। ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া ২নং ওয়ার্ডের বড় মোকাম রাস্তা, ঘোষগাও কদমতলা সড়কগুলো তীব্র খানাখন্দকে ভরপুর। এসব দেখার যেন কেউ নেই। এত কষ্ট করে মানুষ চলাচল করলেও যারা দেখার তারা দেখছে না। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের নিয়ে অনেকের যে আশা ছিল, তা এখন দুরাশায় পতিত হয়েছে। নাজুক এসব সমস্যাগুলো দিনদিন আরও প্রকট হয়ে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন কেউ এসব দেখছে না। দায়সারা ভাবে তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। রাজনৈতিক নেতারা নেতা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। সাধারণ জনগণ নিয়ে কারোরই মাথাব্যথা নেই। সাধারণ মানুষ বলির পাঠা। কে করবে এসবের প্রতিকার? ডিসি সাহেব করছেন তাই বাকীরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবেন?
এসব সমস্যা নিরসনে কারোও হবে কি শুভ বুদ্ধির উদয়?

সুনামগঞ্জে জামায়াতের প্রার্থীর শোভাযাত্রা

 

4

সুনামগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যায়ের মাঠ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে তাঁরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় যান। গণসংযোগ করেন।

 

 

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) দলের প্রার্থী মো. শামস উদ্দিন এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনে (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) দলের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান আজ সকালে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জেলা শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। পরে তাঁরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে শহর থেকে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় যান। পথে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরুর আগে তোফায়েল আহমদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ৫৪ বছর পার করেছে। কিন্তু এখনো দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত, সুবিচার, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। জনগণ সব দলকে দেখেছেন, এবার তাঁরা জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে চান। দেশে আওয়াজ উঠেছে সব দেখেছি বারবার, দাঁড়িপাল্লা এইবার। আমরা যেখানেই যাচ্ছি মানুষের সমর্থন পাচ্ছি।’

শামস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন চাই। এ জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটি করবে বলে আমরা আশা করি।’

ব্লাডম্যান শ্রীমঙ্গল’-এর নতুন কমিটি গঠন সভাপতি জুয়েল, সম্পাদক শামিম

Messenger Creation 8A9DB9D3 3E81 4E97 9E0A FEDB6248ABF3 600x337

স্টাফ রিপোর্টারঃ
‘হও যদি রক্তদাতা, জয় হবে মানবতা’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একদল উদ্যোমীে তরুণ প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘ব্লাডম্যান শ্রীমঙ্গল’। ২০১৫ সালে ২১ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রতিষ্ঠার পর ১০ বছরে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য রোগীকে বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছে সংগঠনের সদস্যরা।
এ ছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিনশত মানুষকে অক্সিজেন ও নেব্যুলাইজার সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে পুরো উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ও ডিম নষ্টকারী ওষুধ স্প্রে করেছে সংগঠনটি। এলাকার দরিদ্র রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সদস্যদের অনুদানে গত দুই বছর আগে কেনা হয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্সও।

শুক্রবার (২২ আগষ্ট)  শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট সড়কে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু  ও সদস্য সচিব মোঃ মুহসিন আবেদীন।

মতবিনিময় সভায় মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু  জানান, একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর শুধুমাত্র রক্তের অভাবে ৫৫ হাজার লোক মারা যান। সে হিসেবে বাংলাদেশের এক বর্গমাইলে একজন করে মানুষ রক্তের অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে এ দেশের সুস্থ সবল যুব সম্প্রদায় ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রক্তদান থেকে বিরত থাকেন। ফলে প্রতি বছর রক্তের অভাবে ঝড়ে যায় ৫৫ হাজার তাজাপ্রাণ। অথচ সামান্য সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই বেঁচে যেত হাজারও প্রাণ, ফুটতো হাসি হাজার মুখে।
মানুষকে সচেতন করে রক্তদানে আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কাউন্সিলিং কর্মসূচির মাধ্যমে রক্তদানের উপকারিতার বিষয় জানানো হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলের ১০ হাজারের অধিক তরুণ-যুবককে আমাদের সদস্য করে রক্তদানে উৎসাহিত করেছি। এখন তারা আমাদের মাধ্যমে নিয়মিত বিভিন্ন রোগীকে রক্তদান করছেন।যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন তাদের যাতায়াত খরচটুকু পর্যন্ত সংগঠনের সদস্যদের অনুদানের টাকায় ব্যয় করা হচ্ছে।
কোনো রোগীর আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে কোনো ধরণের অর্থ নেওয়া হয় না। এমনকি সদস্যদের বাইরে কারও কাছ থেকে চাঁদা বা অনুদানও সংগ্রহ করা হয় না।
মতবিনিময় সভায় ব্লাডম্যান শ্রীমঙ্গলের ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আহ্বায়ক কমিটি। সবার সম্মতিতে নতুন কার্যকরী কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন মুহিবুর রহমান জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন মো. মামুনুর রশীদ শামিম।
নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্লাডম্যান শ্রীমঙ্গলের কার্যক্রমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আরও যারা রয়েছেন।
মুহিবুর রহমান জুয়েল সভাপতি, আব্দুস সোবহান সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোঃ সিরাজুল ইসলাম সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ ইনাম উল্লা খান সহ-সভাপতি,  গোলাম রহমান মামুন সহ-সভাপতি, মোঃ মনিরুল ইসলাম সহ-সভাপতি, মোঃ সাইফুদ্দিন লিটন সহ-সভাপতি, আবিদা সুলতানা চৌধুরী সহ-সভাপতি, মোঃ মামুনুর রশিদ শামিম সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজ উদ্দিন ছাদী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোঃ সালাউদ্দিন দুলাল সহ সাধারণ সম্পাদক, মোঃ সাজ্জাদুর রহমান নওশাদ সহ সাধারণ সম্পাদক, মোঃ মুহসীন আবেদিন সাংগঠনিক সম্পাদক, নাজমুল ইসলাম সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, নুরজাহান আক্তার বিউটি অর্থ সম্পাদক, সবুজ আহমেদ সহ অর্থ সম্পাদক, মেহেরাজ মুছাব্বির প্রচার সম্পাদক, মোঃ আব্দুর রহমান সহ প্রচার সম্পাদক, মোঃ শহিদুল ইসলাম রবিম দপ্তর সম্পাদক, মোঃ মাহমুদুল হাসান তন্ময় সহ দপ্তর  সম্পাদক, মোঃ আমজাদ হোসেন মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক, ফাতেমা বেগম মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, মেহজাবিন আক্তার সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, মোঃ সাইফুল ইসলাম পিং বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ রবিন হোসেন সহ ক্যাম্পিং বিষয়ক সম্পাদক, তানভীর রানা সাজ্জাদ সহ ক্যাম্পিং বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ শাহেদ হোসেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, মুশফিকুর রহমান সামি সহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, এডভোকেট পংকজ সরকার আইন বিষয়ক সম্পাদক, অজয় সিং সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, আব্দুল্লাহ আন নোমান সহ সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, সাজিদুল ইসলাম সাজেদ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ সিরাজুল ইসলাম জাবেদ প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ রোমান উদ্দিন সহ প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, কার্যকরী সদস্য মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু, লিটন বৈদ্য, রাহিম হোসেন রানা, কমল, মাহিন ঢালী, আকাশ দোষাদ, ওমর।