১০ সপ্তাহ ধরে মজুরি পাচ্ছে না কালিটি চা বাগানের শ্রমিকেরা: করোনার ঝুঁকিতে এটা অমানবিক

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার), ০২ এপ্রিল ২০২০ : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলা জনিত পরিস্থিতির কারণে সরকারি ছুটি প্রযোজ্য না হলেও কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত কালিটি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ১০ সপ্তাহ ধরে বন্ধ। এতে শ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। করোনার ঝুঁকিতে এটা অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিটি চা বাগানটি ‘কালিটি টি কোম্পানি লিমিটেডের’ নামে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। বাগানে মোট ৫৩৬ জন শ্রমিক আছেন। প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক ১০২ টাকা করে মজুরি পান। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তা পরিশোধের কথা। কিন্তু ১০ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকেরা মজুরি পাচ্ছেন না। বাগানের শ্রমিক সরদারদের বেতনও আটকা পড়ে আছে নয় মাস যাবৎ।
কালিটি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক উত্তম কালোয়ার বলেন, ‘শ্রমিকেরা এমনিতেই সামান্য মজুরি পান। এরপর ১০ সপ্তাহ থেকে কেউ সেই মজুরি পাচ্ছেন না। কাজ করেও মজুরি মিলছে না। ঘরে চাল-ডাল নেই। উপোস দিন কাটাতে হচ্ছে। বাগান কর্তৃপক্ষ আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করছে।’
উত্তম কালোয়ার অভিযোগ করেন, বাগানে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা। শ্রমিকদের আগের মজুরিও বেশ কিছু টাকা বকেয়া পড়ে আছে। অনেক শ্রমিক জরাজীর্ণ কাঁচাঘরে বাস করছেন। এসব ঘর মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অবসরে যাওয়া শ্রমিকেরা তহবিলের টাকা পাচ্ছেন না। অথচ প্রত্যেক শ্রমিকের মজুরি থেকে সাত শতাংশ করে ভবিষ্যৎ তহবিলের টাকা কেটে রাখা হয়। এর সঙ্গে মালিকপক্ষ আরও সাত শতাংশ যোগ করে মোট ১৫ শতাংশ টাকা শ্রম অধিদপ্তরে জমা দেওয়া কথা। বাগান কর্তৃপক্ষ তা-ও করছে না। বাগানে চিকিৎসক নেই। শ্রমিকেরা বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করালে বাগান কর্তৃপক্ষ বিলের টাকা দেয় না। বাগানে বিরাজমান এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে এর প্রতিকার চেয়ে ৫ জানুয়ারি তাঁরা শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
মজুরি বন্ধের বিষয়ে কালিটি চা বাগানের ব্যবস্থাপক প্রণব কান্তি দেব বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে যথাসময়ে টাকা না পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ৬ এপ্রিল শ্রমিকদের একসঙ্গে পাঁচ সপ্তাহের মজুরি দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যারও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে। তিনি বলেন, তিনিসহ বাগানের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নয় মাসের বেতন বন্ধ আছে।
শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কালিটি চা বাগানের অবস্থা খুবই খারাপ। বাগানের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ড ফান্ডের অন্তত ৫০ লাখ টাকা এখনো জমা হয়নি। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ ও প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাগানের ব্যবস্থাপককে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এখনো মজুরি পরিশোধ না করা হলে তা দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
কালিটি চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ১০ সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, ‘করোনার ঝুঁকিতে এটা অমানবিক।’
সৈয়দ আমিরুজ্জামান চা শ্রমিকদের বকেয়াসহ মজুরি অবিলম্বে পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *