স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান: ওয়ার্কার্স পার্টির অভিনন্দন

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

মৌলভীবাজার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০: ‘৭১-এর রণাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আজিজুর রহমান ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও অারপি নিউজ।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরষ্কার দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনাতয়নে ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে পদক পাচ্ছেন-গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), মরহুম কমান্ডার আব্দুর রউফ, মরহুম মো. আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান, চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. ওবায়দুল কবির চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদির, সাহিত্যে এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ (মুক্তিযোদ্ধা), সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। শিক্ষায় পাচ্ছে ভারতেশ্বরী হোমস।
এটি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন: আজিজুর রহমান তৎকালীন সিলেট জেলার অন্তর্গত দক্ষিণ সিলেট মহকুমার (বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা) গুজারাই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল সত্তার, মাতা মরহুম কাঞ্চন বিবি। তিনি শ্রীনাথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক ও মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা কলেজে ভর্তি হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে হবিগঞ্জের বিখ্যাত বৃন্দাবন কলেজ হতে বি.কম. ডিগ্রী অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন হতেই সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশনায় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ২৬ মার্চ, ১৯৭১ কারাবরণ করেন। ৭ এপ্রিল, ১৯৭১ মুক্তিবাহিনী কর্তৃক জেল ভেঙ্গে সিলেট কারাগার থেকে তাঁকে মুক্ত করা হয়। ০২ মে, ১৯৭১ পুনরায় পাকবাহিনী মৌলভীবাজার শহরে প্রবেশ করে বর্বরোচিত দমন পীড়ন চালানোর পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আত্মনিয়োগ করেন। এক পর্যায়ে মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আহুত পশ্চিমবঙ্গের বাগডুগায় (দার্জিলিং) প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনে যোগদান করেন। প্রবাসী সরকার কর্তৃক আয়োজিত সামরিক প্রশিক্ষণে সিলেট বিভাগের একমাত্র প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৪ নং সেক্টরের রাজনৈতিক কো-অর্ডিনেটর ও কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারে এবং গণপরিষদ সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর শমসেরনগর, ৬ ডিসেম্বর রাজনগর এবং ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।
গণপরিষদের এই সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য রচিত সংবিধানের একজন স্বাক্ষরকারী। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সংবিধানের একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনীতে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও দুই বার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পরবর্তীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার জেলায় ১৪ দল ও মহাজোটের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত।
অকৃতদার এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৌলভীবাজার মহিলা কলেজ (বর্তমানে সরকারী) ও সৈয়দ শাহমোস্তফা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠক। সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, মৌলভীবাজার শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
২০ ডিসেম্বর, ২০১১ স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনমূলে তিনি মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ বাংলাদেশে প্রথমবার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বরত আছেন।

‘৭১-এর রণাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আজিজুর রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ভারতেশ্বরী হোমস মনোনীত হওয়ায় তাদেরকেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
বীরমুক্তিযোদ্ধা, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য আজিজুর রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ, শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক মো. রোহেল অাহমদ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *