সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অনুমতি না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন উপকারভোগীরা

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

শ্রীমঙ্গল, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০: মেয়াদ পূর্তির পরও বন বিভাগ থেকে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অনুমতি না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন উপকারভোগীরা।
দীর্ঘ ১০ বছর বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তারা এসব গাছ পরিচর্চা ও পাহারা দিয়ে আসছেন।
তাদের আশা ছিল লভ্যাংশের টাকা দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু তাদের সেই আশায় এখন গুড়েবালি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর নিবাসী মরহুম তৈমুজ মিয়ার ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা ফইরাজ মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দুর্ভোগের কথা লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন।
মো. গোলাম মোস্তফা ফইরাজ লিখিত বক্তব্যে সামাজিক বনায়নের ৩১ জন উপকারভোগী ২০০৭-২০০৮ সালে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন চাউতলী বনবিটে ৩০.৩৭ হেক্টর ভূমিতে সৃজনকৃত বনজ, কৃষিজ ও ফলজ বৃক্ষ ফসল ভাগাভাগির নিমিত্তে রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন বিভাগের সাথে চুক্তি হয় বলে জানান।
তিনি অারও বলেন, এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের ১ জুলাই। চুক্তি অনুসারে ১০ বছর পর এসব গাছ কেটে বিক্রি করে এর ৪৫ শতাংশ বন অধিদফতর, ৪৫ শতাংশ উপকারভোগী আর বাকি ১০ শতাংশ ট্রি ফার্মিং ফান্ডে জমা দেয়ার কথা।
তিনি জানান, বন বিভাগের সঙ্গে তাদের সামাজিক বনায়নের চুক্তি হওয়ার পর থেকেই তারা গাছ ও সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় নিজেদের অর্থে নৈশ চৌকিদার নিয়োগ করেন।
উপকারভোগীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে নৈশ চৌকিদারদের নিয়ে দিন-রাত পাহারা দেন। গত ১০ বছরে এই বনবিটে তাদের সামাজিক বনায়নের একটি শতবর্ষী বা পুরনো গাছও চুরির কোনো রেকর্ড নেই।
তা ছাড়া তাদের সামাজিক বনায়ন বা বাফার জোনে বনের প্রাণীদের খাদ্য জোগান দেয়, এমন গাছ থেকে থাকলে তা না কেটে অন্য গাছগুলো কাটার জন্য তারা স্থানীয় বন বিভাগকে অনুরোধ করে।
কিন্তু বন বিভাগ গাছ কাটার অনুমতি দিতে তালবাহানা করছে। উপকারভোগীরা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাদের সর্বস্ব দিয়ে এই বনায়ন করেছেন। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস এটি।
অনেকেই বাগান রক্ষা করতে নানা সমিতিসহ বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। এসব ঋণ শোধ করতে অনেক পরিবার গাছ বিক্রির ৪৫ শতাংশ টাকার অপেক্ষায় দিনাতিপাত করছেন।
দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে নানা অজুহাতে তাদের সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে না পারায় অনেক পরিবার এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
তাই বন ও পরিবেশমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে তারা দ্রুত গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আকুল আবেদন জানান। এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৩১ জন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আনিসুর রহমান জানান, সামাজিক বনায়নের ভেতরে অনেক ধরনের গাছ ভুলত্রুমে কাটার তালিকায় উঠে গেছে। সেগুলো বাদ দিয়ে পুনরায় তালিকা করা হবে, যা সময় সাপেক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *