শ্রীমঙ্গলে লকডাউনে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ। “বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ”

Spread the love

নূর মোহাম্মদ সাগর শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি(বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ):

আজ কয়েকদিন ধরে লকডাউন চলতে’ কি করবো এখন “সি,এন,জি গাড়ী চালাইয়া আমার সংসার চলতো। লকডাউনের কারণে গাড়ী নিয়ে বের হওয়া যায় না। কয়েকদিন ধরে এক টাকাও রোজি করতে পারছি না। খুব কষ্টে দিন পার করছি পরিবার নিয়ে। গত বছর লকডাউনে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে সহযোগিতা পাইলেও এইবার কোনো সাহায্য মিলের না। খেয়ে না খেয়ে সন্তানাদি নিয়ে কষ্ট আছি। এভাবে চলতে থাকলে মরা ছাড়া কোনো গতি নাই।” এভাবেই নিজের অসহায়ত্বে কথা জানাচ্ছিলেন দিনমজুর দেলোয়ার হোসেন শাহিন (৪৫) শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশীদ্রোন খোশবাস এলাকার বাসিন্দা।

লকডাউনে দেলোয়ার হোসেন শাহিন এর মতো নিম্ন আয়ের এমন অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। কড়াকড়ি লকডাউনে কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা।
ফলে খাদ্যভাবে দিশেহারা রিকসা চালক, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের এসব পরিবারের লোকজন। তাই লকডাউন চলাকালে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন তারা।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশের ন্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার শনিবার ১২তম দিনের মতো ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ পালিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে রেল কলোনি এলাকার অটোরিকসা চালক নুরুজ্জামান বলেন, করোনাতো আর পেট মানে না। তাই বাধ্য হয়ে রিকসা নিয়ে বের হই। পুলিশের বাধায় অটোরিকসা চালানো যায় না। ঘরে কোনো কিছু নেই, কামকাজ বন্ধ। পরিবারে এতোগুলো মানুষের ভাতের যোগাড় করবো কি করে। কোন সাহায্য না পেলে না খেয়েই মরতে হবে আমাদের।
শ্রীমঙ্গল শহরের চা ব্যবসায়ি মো. সুমন মিয়া বলেন, গত মাসেও ছিল লকডাউন। এই মাসের ১ জুলাই থেকে লকডাউন শুরু হয়েছিল। লকডাউন শুরু থেকে আমার চা পাতার দোকান বন্ধ রয়েছে। লকডাউনে ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ থাকায় কষ্টে জীবনযাপন করছি। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকার পরও দোকান মালিক ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। কোথায় থেকে ভাড়া দিব’ যেখানে দোকান বন্ধ।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *