শ্রীমঙ্গলে বাদাম চাষে কৃষকের সফলতা

Spread the love

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাদাম চাষে সফল হয়ে উঠেছেন এক কৃষক। বাদামের ভাল ফলন হওয়ায় চোখে মুখে হাসি ফুঁটে ওঠেছে ওই কৃষকের। এদিকে শ্রীমঙ্গলে মাটি ও কৃষিকে কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষে কৃষকের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জানা যায়, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিলাশের পাড় এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্তোষ চন্দ্র সরকার (৬৫) নিজ বাড়ির পাশে মাত্র দেড় শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বাদাম চাষ শুরু করেন। সামান্য খাটুনী আর পরিচর্চায় তিন মাসের মধ্যে বাদামের অভাবনীয় উৎপাদনে তিনি এখন বেজায় খুশী।
সন্তোষ চন্দ্র্র সরকার ১৯৭৯ সালে স্থানীয় বিলাশেরপাড় ছবুরাখাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ ৩৭ বছর শিক্ষকতার পর ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তারিখে সরকারি চাকুরী হতে অবসর গ্রহন করে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ধানক্ষেতের দোআঁশ মাটিতে বাদাম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনেন তিনি।

সন্তোষ সরকার জানান, বাড়ির পাশে তিন কেয়ার ধানের জমি আছে তার। এতে বছরে দুইবার ধান চাষ করেন তিনি। দেখা গেছে অগ্রহায়ন হতে বৈশাখ পর্যন্ত দীর্ঘ চার মাস জমিটি পতিত পরে থাকে। তাই বিকল্প চিন্তা করে কয়েক বছর ধরেই জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের পাশাপাশি কিছু কিছু করে বাদাম চাষ শুরু করেন। এ বছর সরকারিভাবে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে পৌষ মাসের প্রথম দিকে দেড় শতক জমিতে প্রায় ১০ কেজি বাদামের বীজ বপন করেন তিনি। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে চলতি সময়ে ওই জমিতে ২ মনেরও অধিক বাদম উৎপন্ন হওয়ায় এ বছর বাদাম চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার নীলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি বলেন, সন্তোষ সরকার এই উপজেলায় প্রথম বাদাম চাষের উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন, সাধারণত ঝুরঝুরে হালকা বেলে দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তথাপী এতদঞ্চলের দোঁআশ মাটিতে বাদাম চাষে সন্তোষ সরকারের এমন সফলতায় উপজেলার অন্যান্য কৃষকরাও বাদাম চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *