শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের সাথে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষ-ভাংচুর

Spread the love

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নারী চা শ্রমিকদের ছবি তোলা নিয়ে পর্যটকদের সাথে চা বাগান শ্রমিকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইস্পাহানী জেরিন চা বাগানের সাহেব বাবুসহ ২০-২২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় গ্রান্ড মোবিন রিসোর্ট নামে একটি গেষ্ট হাউসের দরজা জানালার ও আসবাবপত্র ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার গ্রান্ড মোবিন রিসোর্টে ঢাকার ইব্রাহিম হোসেন, আবিদ হোসেন, মামুন মিয়া, মেহেদী হাসান, রাজ্জাক মিয়া, আনোয়ার হোসেনসহ ২০ থেকে ২২ জন অতিথি পাশ্ববর্তী ইস্পাহানি চা কোম্পানীর জেরিন বাগানে প্রবেশ করে চা পাতা চয়নরত নারী শ্রমিকদের ছবি তুলে। এসময় নারী চা শ্রমিকরা বিনা অনুমতিতে কাটা তারের বেড়া পেড়িয়ে চা বাগানে প্রবেশ ও অপ্রস্তুত তাদের ছবি তুলতে নিষেধ করেন। এতে বাধা উপেক্ষা করে পর্যটকরা আবারও ছবি তোলার চেষ্টা করলে নারী শ্রমিকরা বাগানের সাহেব ও বাবুদের খবর দেয়।

 

 

খবর পেয়ে বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী এসে পর্যটকদের বাগান থেকে বেড়িয়ে যাবার জন্য বলে। এতে পর্যটকরা মোহাম্মদ আলীকে টেনে হিচরে রিসোর্টের ভেতর নিয়ে যায়। এসময় শ্রমিকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। এরপর বিপদে প্রথা অনুযায়ী বাগানে ‘পাগলা ঘন্টা’ বাজানো হলে বাগানজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কয়েকশ’ চা শ্রমিক ম্যানেজারকে উদ্ধারে মোবিন রিসোর্টে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর চালায়। এসময় উত্তেজিত চা শ্রমিকদের সাথে পর্যটকদের সংর্ঘষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী (৪৫), স্টাফ আব্দুল কাদির (৩৫), চা শ্রমিক সুতি সাংমা (৪০), আলো মণি বাড়ই (৫৪), অনিতা গোয়ালা (৪০) ভারতী (৪০) অঞ্জলি বাপতি (২০), সন্ধ্যা সংকর (৩৫), বিশ^ মণি (২৬), পারুল বেগম (৩০), মামুন মিয়া (২৪), ইন্দ্রজীত দাস (২২) উত্তম গোয়ালা (২৯) কে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাকিদের স্থানীয় বাগান হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক, ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন, ওসি (তদন্ত) হুমায়ন কবিরসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

 

 

পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য রিসোর্ট থেকে বাহিরে এনে শ্রীমঙ্গল শহরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া জেরিন চা বাগানের জেনালের ম্যানেজার সেলিম রেজা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেম সাগর হাজরা, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ দেব বর্ম্মা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।

 

 

গ্রান্ড মোবিন রিসোর্টের পরিচালক ইসরাত জাহান মিতু বলেন, ‘বুধবার ঢাকা থেকে ছাত্রলীগের পরিচয়ে ২২ জন অতিথি তাদের রিসোর্ট ভাড়া নেয়। রাতে বারবি কিউ পার্টি করে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে তাদের চেক আউট করার কথা ছিল। এরি মধ্যে ছবি তোলা নিয়ে বাগান শ্রমিকরা হামলা করে। এসময় ৭শ’ থেকে ৮শ’ শ্রমিক তাদের রিসোর্টে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এতে করে তাদের ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

 

শ্রমিকদের হামলায় তাদের দুই অতিথি আহত হয়েছেন। মিতু বলেন, ‘অতিথিদের সাড়ে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া ও প্রায় ১৪ হাজার ৬শ’ ৪০ টাকার খাবারের বিল বকেয়া রেখে তারা চলে যায়। এ টাকা পাবো কি না তারও কোন নিশ্চয়তা নেই’।

 

 

জেরিন চা বাগানের জেনালের ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, ‘দুপুর ১১টার দিকে তাদের চা বাগানের পাশে একটি রিসোর্টের ২০-২২ যুবক বিনা অনুমতিতে বাগানে প্রবেশ করে চা পাতা চয়নরত ‘অপ্রস্তুত’ চা নারী শ্রমিকদের ছতি তুলে। বাধা দিলে তারা নারী শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করে। পরে আমাদের একজন ম্যানেজারকে সার্টের কলার ধরে রিসোর্টে ধওে নিয়ে যায়। এ খবর বাগানে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তাদের ম্যানেজারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সেখানে কিছু গন্ডগোল হয়েছে জানিয়ে সেলিম রেজা বলেন, যা হবার হয়েছে-এনিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না’।
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও কোন পর্যটকের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, চা বাগানে ছবি তুলা নিয়ে স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাথে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো। পরে স্থানীয়রা এসে এটির একটি সমাধান করে দিয়েছেন।

 

 

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, ‘ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। পরে পর্যটকদের বের করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়। এছাড়া বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদের নিবৃত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক’ জানান ওসি নয়ন কারকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *