শ্রীমঙ্গলে দরিদ্র এক যুবতীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের চেষ্টা

Spread the love

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

শ্রীমঙ্গলে দরিদ্র এক যুবতীকে ইয়াবা টেবলেট দিয়ে ফাঁসাতে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে ৪ পাষন্ড। উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের নলোয়ার পাড় গ্রামে এই বর্বরচিত ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের দিনমজুর সেলিম মিয়ার অষ্টাদশী কন্যা বলে জানা যায়। গত ৩০ জুন রাতে মেয়েটিকে কু প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। মেয়েটি বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৪ জুন রাতে এলাকার আলী আজ্জুনের ছেলে আমির হোসেন, কালা মিয়ার ছেলে শফিক ও শাহীন মিয়া, দিঘালী গাঁও এর ছমির মিয়ার ছেলে সানু মিয়া। সর্ম্পকে মেয়েটির মামা শাহীন মিয়া। তারা যোগসাজস করে ঘরে ইয়াবা টেবলেট দিয়ে ফাঁসিয়ে আমার যুবতি মেয়েকে গভীর রাতে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরদিন গ্রামের লোকজন নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেয়।

 

 

সেলিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে শফিক মিয়া তার সহযোগী আমির হোসেন এর সাথে আমার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। আমি তাতে সায় না দেয়ায় তারা আমার মেয়েকে ইয়াবা বড়ি দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশে দেয়। এরপর আবার মেয়েটাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। লোকজন আমার মেয়েকে উদ্ধার করে রাত ১২ টায় হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এই গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার ফুল মিয়া বলেন, মেয়েটি বালুর ছড়ায় দিন মজুরের কাজ করে। মা ভিক্ষাবৃত্তি করে। অনেক কষ্ট করে তারা এক খন্ড জমি কেনার জন্য শফিক মিয়াকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু এ জমি নিজের নামে বায়না দলিল করে নেয়। এই টাকার জন্য তাগাদা দিলে শফিক মিয়া মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তার দেয়। এতে ব্যর্থ হলে ঘরে ইয়াবা টেবলেট রেখে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল ৫০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংহিসতার শিকার মেয়েটি জানায়, ‘আমি ছড়ায় দিন মজুরের কাজ করি। সেদিন ছিল বুধবার (১৬ জুন)। সন্ধার আগে শাহিন ও সফিক আমাদের ঘরে আসে। আমি তখন ঘরে ছিলাম না। পরে শুনেছি তারা মায়ের কাছে পান খাওয়ার কথা বলে। আমরা গরীব মানুষ। মা ভিক্ষে করে। ঘরে পান ছিল না। মা পাশের বাড়ি থেকে পান নিয়ে এসে তাদের খাওয়ায়’। মেয়েটি অভিযোগ করেন, ‘এদিন গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। পরে পুলিশ আমার বিছানা তল্লাসী করে ৯পিছ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার করে। আমি এর কিছুই জানতাম না। দারোগা জাকিরকে অনেক অনুনয় করেছি-কিন্তু আমার কথা শোনেনি। ওই রাতে আমাকে থানায় নিয়ে যায়’। বাম হতের কব্জিতে দাগ দেখিয়ে মেয়েটি জানায় ‘গত বুধবার (৩০ জুন) সন্ধা রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের পেছনে গেলে অন্ধকারে শফিক মিয়া আমাকে ঝাটটে ধরে। এসময় শফিক মিয়া আমাকে কু প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় আমার মুখে ওঁড়না পেঁচিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় শাহীন ও আরো একজন দূরে ছিল। আমি এ সময় প্রথমে চিৎকার ও শফিকের হাতে কাঁমড় দেই। এতে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়।
এ নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে এসআই জাকির-২ বলেন, সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে মেয়েটির বিছানা তল্লাসী করে ৯পিছ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার থানায় নিয়ে আসি। পরে ঘটনাটি সাজানো বুঝতে পেরে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়া হয়। সাজানো ঘটনা হলে সোর্সের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না– -মন প্রশ্ন করা হলে জাকির জানান, বিষয়টি ওসি সাহেব বলতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেক বলেন, মেয়েটি আটক হওয়ার পর দিনভর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মেয়েটি এ কাজে জড়িত নয়। মেয়েটিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *