মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরির দিন শেষ’ : স্লাভায় জিজেক, দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

ঢাকা, ২৯ মার্চ ২০২০: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরির দিন শেষ এবং করোনা-উত্তর সময়ে বিশ্ব সমাজের হবে নতুন চেহারার বলে জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী স্লাভায় জিজেক। আর টি নিউজ এর প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ডিজাস্টার ক্যাপিটালিজম বা দুর্যোগ-পুঁজিবাদ টার্মটি নাওমি ক্লেইন-এর। তিনি দেখিয়েছেন, মানবসৃষ্ট দুর্যোগে (যেমন যুদ্ধ) নিওলিবারাল বাজার ব্যবস্থা কিভাবে মুনাফালোভী তৈরি করে, কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে মুনাফা করে। কিন্তু মহামারি মুনাফা চিনে না।

তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, জার্মানীর যে ওষুধ কোম্পানি করোনার ওষুধ বানাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই কোম্পানীর সব ওষুধ কিনে নিতে চেয়েছিল।কোম্পানিটি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তারা সারা পৃথিবীর জন্যই বানাবে ওষুধ। জার্মানি ইজ নট ফর সেল!

তিনি দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা-দুর্যোগ এক নতুন ধরনের সাম্যবাদের ইশারা দিচ্ছে। করোনায় ভাল কাজ করে, এমন একটি কিউবান ওষুধ এখন চীনে উৎপাদিত হচ্ছে। চীন আর কিউবা মিলে পৃথিবীর অপরাপর দেশে রপ্তানি করবে আশ্বাস দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বহু দেশ সেই ওষুধের জন্য কিউবার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি জানান, ‘চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও চীন দ্রুত এটি সামলে উঠেছে। কিউবাও আক্রান্ত নয়। রাশিয়া অনেক কম আক্রান্ত। বিশ্বে মহামারি দেখা দিলে বিদ্যমান ডিজাস্টার ক্যাপিটালিজমকে মানুষ ঘৃণা করতে শিখবে এবং সেসময় উদীয়মান ডিজাস্টার সোশ্যালিজম বিশ্ব রাজনীতিরও হিসাব নিকাশ পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী স্লাভায় জিজেক পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লীপনার অবসানের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভবিষ্যতের রাজনীতি ও পরিবর্তনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “মহান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী মহামতি কমরেড কার্ল মার্কস লিখেছিলেন ‘দার্শনিকরা জগতটাকে শুধু ব্যাখ্যা করে গেলেন, মূল কাজ হচ্ছে বদলে ফেলা’। করোনা-উত্তর সময়ে বিশ্বে বদলে ফেলা অর্থাৎ অার্থ সামাজিক ব্যবস্থার অামূল পরিবর্তনের সংগ্রাম তরান্বিত করা ও বিপ্লবের কাজটি সংঘটিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাজের নতুন চেহারায় রূপ নিতে পারে বলে বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে অামরা মনে করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *