মনোবল শক্ত রেখে দুর্যোগ মোকাবেলার আহ্বান শ্রীমঙ্গলের ইউএনও নজরুল ইসলামের

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

শ্রীমঙ্গল, ২৬ মার্চ ২০২০: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে দৃঢ় প্রত্যয় ও অান্তরিক প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণসহ সকল দুর্যোগ মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম।
করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে ইতি মধ্যে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও আইসোলেশন সেন্টার। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো।
উপজেলা প্রশাসনের ফেইজবুক পেজে তিনি এ আহ্বান জানান।
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম তার দেয়া পোস্টে শ্রীমঙ্গলবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আশা করি এই দুর্যোগকালীন সময়ে নিজেকে এবং পরিবারের সকলকে নিরাপদে রাখার প্রত্যয়ে প্রত্যেকে সচেষ্ট আছেন। সকলের দৃঢ় প্রত্যয় ও আন্তরিক প্রচেষ্টায়; অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এই পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, মিডিয়াকর্মী, বিভিন্ন ব্যক্তি/সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
In Aid to the Civil Power-এর আওতায় উপজেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য শিগগিরই সারাদেশের ন্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলাতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। আর এক্ষেত্রে সকল নাগরিকবৃন্দ বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত প্রবাসী নাগরিকবৃন্দ সরকার নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ডকালীন শর্ত মান্যকরণ ও অন্যান্য নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে শ্রীমঙ্গলের শ্রী বৃদ্ধিতে উচ্চতর ভূমিকা রাখবেন।
ভয়ের কিছু নেই; প্রয়োজন দৃঢ়তার।
কিন্তু আমাদের অনেকের মাঝেই এই দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। অথচ, বিভিন্ন মাধ্যমে খুব সহজেই আমরা আত্মরক্ষার কৌশলগুলো জেনেছি এবং আমরাও যথাসময়ে নোটিশ, বিজ্ঞপ্তি, লিফলেট, ফেস্টুন, মাইকিং, মোটিভেশনাল স্পিচ, এমনকি সোসাল মিডিয়ায় লেখনীর মাধ্যমে সকলকে অবহিত করেছি। তথাপিও দু’য়েকজনকে ক্ষেত্রবিশেষে দণ্ড দিতে হয়েছে সকলের বৃহত্তর স্বার্থে। এবং এই সময়েও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা অবলম্বন করতে হয়েছে, যা কখনো প্রত্যাশিত হতে পারে না।
আমরা মনে করি ইতোমধ্যে আমরা প্রত্যাশিত মাত্রায় দায়িত্ববান হয়েছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে, ‘ নিজেকে এবং অপরকে নিরাপদ রাখতে আপনি সরকার নির্ধারিত নিয়ম প্রতিপালন করুন, আপনার যৌক্তিক প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি সর্বক্ষণ।
ইতোমধ্যে সরকার নির্দেশিত মতে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে প্রতি ইউনিয়ন ও প্রতি ওয়ার্ডে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিসমূহ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কোয়ার্টারকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্ডার গার্ড পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তাছাড়া গঠিত কমিটিসমূহের বাইরেও ‘ALL OUT WAR AGAINST CORONA’ থিম নিয়ে “Sreemangal Defenders’ নামে একটি ৪০ সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। অতঃপর, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “গুজব বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধিসহ কোয়ারেন্টাইন মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন হওয়ার অাহবান জানাচ্ছি।
১. পৃথিবীর অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এজন্য অস্থায়ী মেডিকেল পোস্ট স্থাপন ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উচিত।
২. ঢাকা শহরের কিছু হাসপাতাল এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কিছুটা প্রস্তুত হলেও সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য অপ্রতুল। গত বছর ঢাকার বাইরে যেভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার হয়েছে তাতে করে দেশের সবগুলো জেলা শহরে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক হাসপাতাল ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা দরকার। যেহেতু বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিক ও প্রবাসীরা বেশিরভাগ সময়ে সরাসরি গ্রামে চলে যান, তাই তারা যাতে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক সেবা ও পরামর্শ পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর করোনা ভাইরাস বিষয়ক জরুরি তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত প্রচার করা জরুরি। এছাড়াও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে সব রোগীকে ভর্তি করে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পর্যাপ্ত বেড আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নেই। তাই এই ক্ষেত্রে বর্তমানে ক্যানাডার গৃহীত পদক্ষেপ ‘self-isolation’ কার্যকরী হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগী করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে সে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য নিজ ঘরে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এমতাবস্থায়ও প্রয়োজনের সময় তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা দরকার।
৪. সরকার চীনে প্রচুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিসু, টয়লেট পেপার পাঠিয়েছিলো, যা প্রশংসনীয়। নিজের দেশের জনগণও যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান, টিসু, টয়লেট পেপার ইত্যাদি প্রয়োজনের সময় পায়, সেই ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে।
৫. বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে মানুষকে self-isolation, অর্থাৎ নিজের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে বলছে, তাতে করে মানুষ বাজার-ঘাটে কম যেতে চাইবে, এবং ফলশ্রুতিতে জিনিসপত্র কিনে ঘরে রেখে দিতেও চাইবে। সরকারকে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে নিয়মিত হাত ধুলে, ঘরের বাইরে কিছু স্পর্শ না করলে, বা স্পর্শ করে নাক-মুখ-চোখ ধরার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিলে কোন চিন্তা নেই। সেইক্ষেত্রে একবারে একমাসের বাজার করে রাখারও প্রয়োজন নেই। ৬. ইরান বা যুক্তরাজ্যে সরকারের শীর্ষ এমপি, মন্ত্রীরা করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটাকে ভয় হিসেবে না দেখে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের করোনা টেস্ট করে মানুষকে রিপোর্ট জানানো উচিত স্বচ্ছতার খাতিরে। মিডিয়া হাউজগুলোও নিজ উদ্যেগে নিজেদের করোনা টেস্ট করে পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে জানাতে পারে।
৭. এই প্যানডেমিকে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কিন্তু কোনো মুক্তি নেই। তারা চাইলেও নিজেদের self-isolation এ নিতে পারবেন না, যেমনটি পারেননি ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও। তাই ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা কিংবা জনস্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন, আস্থা রাখুন। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। তারা যাতে নিজেদের অসহায়বোধ না করেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *