বেতনের পুরো টাকা দিয়ে গরিবের জন্য খাবার কিনবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক

Spread the love

রিপোর্টার” সৈয়দ জামী’

নারায়ণগঞ্জ, ৩১ মার্চ ২০২০: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক নিজের বেতনের পুরো টাকা দিয়ে খাবার কিনে হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যতদিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত ঝুঁকি থাকবে ততদিন খাদ্য নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নাহিদা বারিক বলেন, আল্লাহ আমার চলার মতো সামর্থ দিয়েছেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসে দেশের এমন পরিস্থিতিতে অনেক দিনমজুরসহ হতদরিদ্ররা কাজ করতে না পেরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণ স্বশরীরে দরিদ্র মানুষের বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়ার সময় এটা উপলব্ধি করেছি। তাই নিজের বিবেকের তাড়নায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণের পাশাপাশি নিজের বেতনের পুরো টাকায় খাদ্য কিনে গরিবদের মাঝে বিতরণ করবো।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু মানুষকে দেখলাম দিনমজুর। তার পরিবারের সদস্য ৭/৮ জন। করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ নাই। একদিন কাজ না করলে অন্যদিন ঘরে খাবার জুটবে না। এসব ব্যক্তির পরিবার পরিজন নিয়ে তিন বেলা খাবার যোগাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইউএনও হিসেবে আমাকে সরকার যে টাকা বেতন দেয় তার পুরো টাকা দিয়ে খাদ্য কিনে ওইসব পরিবারে পৌঁছে দেব। আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দান করেন।
তিনি বলেন, আমার মতো সবাই যদি এমন চিন্তা করেন তাহলে অনেক দরিদ্র পরিবার দুই বেলা খাবার পেতে পারে। আর সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ করছি যতদিন করোনা ভাইরাস মোকাবেলার পরিস্থিতি থাকে ততদিন যেন নিম্ম আয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ান।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক নিজের বেতনের পুরো টাকা দিয়ে নিম্ম আয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত গরীব ব্যক্তিদের জন্য খাবার কিনে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *