বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই

Spread the love
  • 1
    Share

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০: একুশে পদক প্রাপ্ত, বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের আর নেই। আজ শুক্রবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর। স্ত্রী অভিনয় শিল্পী সারা যাকের, ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের, ছেলের বউ মিম রশিদ, নাতনি নেহা ও মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়াকে রেখে যান তিনি।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান গোলাম কুদ্দুস সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের বরাত দিয়ে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকালে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আলী যাকেরের মরদেহ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নেওয়া হয়। বনানী গোরস্থানে দাফন করার চিন্তা ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটা নিশ্চিত হয়নি।
নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা প্রমুখ পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকেরের মৃত্যুতে ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের মুত্যৃতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অগণিত ভক্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ২১ পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের আজ শুক্রবার ভোর ৬.৪০ মিনিটে ৭৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এক শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, আলী যাকের আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। বহু কালজয়ী নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেশে-বিদেশে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। নিপুণ অভিনয়শৈলী ও অনন্য সৃজনশীলতা তাকে বিশিষ্টতা দান করেছিল। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর প্রয়াণে আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গণে অপূরনীয় শূণ্যতা তৈরী হবে।

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক প্রকাশ

বরেণ্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের মুত্যৃতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অগণিত ভক্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান। অারও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক তাপস কুমার ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল আহমদ।

জানা গেছে বেশ কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন আলী যাকের। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত থেরাপি চলছিল তাঁর। গত সপ্তাহে শারীরিক সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।পরে কিছুটা সুস্থ হলে শনিবার বাসায় নেওয়া হয়। রোববার আবার ভর্তি করানো হয়। সোমবার কোভিড-১৯ টেস্ট করানো হলে জানা যায়, তিনি কোভিড-১৯ পজিটিভ।
আলী যাকের ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর বাবা মোহাম্মদ তাহের ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির বদলি সূত্রে অল্প বয়সে কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে কাটান আলী যাকের।
আলী যাকের ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তাঁর ঠিকানা। ‘বাকি ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’, ‘কোপেনিকের ক্যাপটেন’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ম্যাকবেথ’সহ অনেক আলোচিত মঞ্চনাটকের অভিনেতা ও নির্দেশক তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তিনি পেয়েছেন জনপ্রিয়তা।
‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’, ‘পাথর’, ‘দেয়াল’সহ বহু নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলী যাকের। বেতারে ৫০টির বেশি নাটক করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। টেলিভিশনের জন্য মৌলিক নাটক লেখাসহ নানা বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখিও করেছেন দীর্ঘদিন।
আলী যাকের নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। তিনি একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে সংস্কৃতি ও নাট্যাঅঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *