বই পড়লে মানুষের মন আলোকিত হয় : বিকাশ-বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে খায়রুল আলম সবুজ

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

শ্রীমঙ্গল, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০: “পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ অাছেন, যারা বই পড়েন অার যারা বই পড়েন না। তফাৎটা কিন্তু বিশাল। বই পড়লে মানুষের মন সবচেয়ে অালোকিত হয়, বিকশিত হয়।
অালোকিত ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে অাগামী প্রজন্মের মধ্যে সেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ, তা সত্যি অসাধারণ।” ভবিষ্যত প্রজন্মকে বইয়ের অালোয় অালোকিত করার লক্ষ্যে বিকাশের সহায়তায় শ্রীমঙ্গলের দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশিষ্ট লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ এসব কথা বলেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেড বিগত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ (বইপড়া) কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ উপলক্ষ্যে অাজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার মহসিন অডিটোরিয়ামে উদয়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বইপড়া কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য কর্মসূচির বই প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের রেগুলেটরি এন্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের হেড হুমায়ুন কবির, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী ও শ্রীমঙ্গল উদয়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক অাব্দুল মালেক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শ্রীমঙ্গল শাখার সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
অতিথির বক্তৃতায় বিকাশের রেগুলেটরি এন্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের প্রধান হুমায়ুন কবির বলেন, বই পড়ায় উৎসাহিত করার মত একটা কার্যক্রমের অংশ হতে পেরে বিকাশ অানন্দিত। মানুষ ও দেশের উন্নয়নে, ভবিষ্যত প্রজন্মের মেধা ও মননের বিকাশে অামরা সবসময় পাশে থাকতে পারবো অাশা রাখি।
ব্র্যাক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানি ইন মোশন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্তর্গত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, অ্যান্ট ফিনান্সিয়াল এর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিকাশ ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে আসছে।
স্বাগত বক্তৃতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শ্রীমঙ্গল শাখার সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবছর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কার্যক্রমে ৪০ হাজার বই দেয়ার কথা জানিয়েছে বিকাশ। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচীর উদ্বোধনের পর অাজ শ্রীমঙ্গলের এ দুটি স্কুলে বই বিতরণের মাধ্যমে তা অারো সম্প্রসারিত হলো।
স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মনের বিকাশ ও উৎকর্ষের লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রথম বড় কর্মসূচি এটি। একজন সংস্কৃতিবান, যোগ্য ও উদ্যমশীল মানুষের নেতৃত্বে আলোকিত পরিবারের মতো করে গড়ে উঠেছিল সারাদেশের শাখাগুলো। তারপর ওই শিক্ষায়তনগুলোর ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ- এই সাতটি শ্রেণির মেধাবী, প্রতিভাবান ও উদ্যম-উৎসাহসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের খুঁজে এনে বছরের-পর-বছর ধরে ওই শাখায় তাদের সম্পন্ন মানুষ হিশেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
দু-ভাবে এই চেষ্টা চলছে : [১] সাত বছরে তাদের মন ও বয়সের উপযোগী প্রায় পৌনে দুশো শ্রেষ্ঠ বই পঠন-পাঠনের ভেতর দিয়ে (প্রতিবছর ১৬টি নিয়মিত ও ৯টি অতিরিক্ত বই)। বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য ছিল বিপুল পরিমাণ পুরস্কারের ব্যবস্থা।
[২] একটি আনন্দময় ও বহুমুখী সাংস্কৃতিক জীবনের ভেতর দিয়ে তাদের সুস্মিতভাবে বিকশিত করে তোলার মাধ্যমে। বইপড়ার মাধ্যমে ঘটেছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ভেতর দিয়ে ঘটেছে হৃদয়বৃত্তির পরিশীলন। এভাবে জীবনের সূচনালগ্নেই তারা হৃদয়বান, মননশীল ও আনন্দময় মানুষ হিশেবে বিকশিত হবার সুযোগ পেয়েছে। ২০০২ সাল পর্যন্ত সারা দেশে এই কর্মসূচির শাখা ছিল ১১০০টি।
পট পরিবর্তন: ২০০৪ সালে এসে দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রম, হুবহু একই আদলে, স্কুল-কলেজের বাইরে থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যায় স্কুল-কলেজের ভেতরে। শুরু হয় আলাদা আলাদা স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম। স্কুল-কলেজগুলোর প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ অভিভাবকত্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন যোগ্য ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক-অধ্যাপকের নেতৃত্বে নতুন চরিত্র নিয়ে শুরু হয় এটি। বর্তমানে দেশের ২১০০ স্কুল ও কলেজে কর্মসূচিটি চলছে। মোট পাঠকসংখ্যা ২ লক্ষ ১৭ হাজার।
অর্জন: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অর্জন গৎবাঁধা কোনো নিয়মে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এর অভিঘাত প্রবলভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত তরুণ প্রজন্মের চিত্তের আলোকায়ন ও মননের উৎকর্ষ সাধনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রভাব কতটা সুদূর প্রসারী হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি প্রচলিত সেবা-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে বোঝানো যাবে না। এর পরও শতসহস্র ছাত্রছাত্রী ও ব্যক্তি বিশেষের জীবনে ও সমাজে উচ্চমূল্যবোধে ও পূর্ণতর মনুষ্যতে জেগে ওঠার মধ্যে দিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার অর্জনের মাত্রা অনুভব করতে পারে। গত ৪১ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র স্কুল ও কলেজের প্রায় ৯০,০০,০০০ (নব্বই লক্ষ) ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করেছে। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ছাত্রছাত্রী এবং পাঠক সম্পৃক্ত আছে। আমরা আশা করছি আগামী ২০২২ সাল নাগাদ প্রায় ৫ মিলিয়ন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিতভাবে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। ইতিমধ্যেই একটি প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যাঁরা গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন উৎকর্ষ কার্যক্রমের আলোকে উন্নততর মনুষ্যত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে যার প্রকাশ ঘটছে তাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও তার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিভিন্ন কর্ম ও অবদানের জন্যে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
জ্যান অ্যামোস কমিনিয়াস পদক ২০০৮ শিক্ষাক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সবচেয়ে সম্মানসূচক এই পদকটি ছাত্রছাত্রীদের এবং সাধারণ জনগণের মাঝে বইপড়ার আগ্রহ সৃষ্টিতে চমৎপ্রদ পদ্ধতি, অবদান ও অর্জনের স্বীকৃতি হিশেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে প্রদান করা হয়েছে।
র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার ২০০৪, এই পুরস্কারটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে সাহিত্যের প্রতি তাঁর সুগভীর অনুরাগ ও বাংলাদেশের নবীন প্রজন্মকে বিশ্বের ও বাংলাসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার মাধ্যমে তাদের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্যে দেয়া হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *