পোল্ট্রিখামারে ভাগ্য বদলে যাওয়া জুড়ী উপজেলার কামালের গল্প

Spread the love

…মাহবুব আলম জলিল, জুড়ী

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে বাড়ীতেই কর্মসংস্থান তৈরি করে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করা যে অসম্ভব কিছু নয় তারই প্রমাণ রাখলেন।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের আব্দুস শহিদের কনিষ্ঠ ছেলে এমরান হোসেন কামাল (৩০) শিক্ষাজীবন শেষ করে বেকারত্বের হতাশা যখন তার মাঝে ভীড় করছিল তখনি বড় ভাইদের পক্ষ হতে তাঁর কাছে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব আসে।
কিন্তু বিদেশের মাটিতে অমানুষিক কষ্টের কথা ভেবে সেখানে যাওয়ার
কোন সাহস পায়নি সে। অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন,বাড়ীতেই পোল্ট্রিখামার করে প্রতিষ্টিত হবেন।

তাই পেশা হিসেবে প্রথমে সোনালী মোরগ দিয়ে শুরু হয় তার খামার ব্যবসা। এই প্রসঙ্গে কামাল জানান,২০১৭ সালের জুন মাসে আমি ৫০ হাজার টাকা পুজি দিয়ে সোনালী মোরগের একটি খামার তৈরি করি। খামার করার কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে আয় বাড়তে থাকে। তাতে খামারের প্রতি আমার উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।তাই পারিবারিকভাবে মা-বাবা ভাইদের সাথে পরামর্শ করে আরেকটি লেয়ার মোরগীর খামার তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহনকরি। সেই লক্ষে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বাড়ীরপাশে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মা পোল্ট্রি খামার নামে একটি লেয়ার মোরগীর খামার প্রতিষ্টাকরি।

 

 


এই লেয়ার খামারটি করতে আমাকে নতুন করে আরও দেড়লাখ টাকা পুঁজি বাড়াতে হয়েছে। বর্তমানে খামারটিতে একটি সেটে প্রায় ১১০০ মোরগী রয়েছে এখান থেকে দৈনিক ডিম উৎপাদন হয়ে থাকে ৯০০ থেকে ৯৫০ টি।
এভাবেই বিগত ১৮ মাস ধরে ডিম উৎপাদন হচ্ছে। সব খরছ বাদে ২টি খামার থেকে আমার মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান বর্তমানে ২টি খামারে সবমিলিয়ে ৭ লাখ টাকার মতো পুজি জমা হয়েছে।
নতুন উদ্যোক্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, যে কেউ ইচ্ছে করলে আমার মতো পোল্ট্রিখামার দিয়ে নিজের ভাগ্য গড়তে পারেন। আর এটা করতে হলে আগে নিজের শক্ত মনোবল ও অল্পদিনের প্রশিক্ষণই যথেষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *