পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করায় জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়নের অভিনন্দন

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল ২০২০: করোনা ভাইরাসে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষিখাতের ক্ষতি মোকাবেলায় কৃষকের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে বলেন, এর আগে সাধারণ শিল্পখাতের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। ওই ঘোষণায় সংকটগ্রস্থ কৃষি ও কৃষকের প্রণোদনা না থাকায় আমরা সরাসরি কৃষি ও কৃষকের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার “কৃষি প্রণোদনা” ঘোষণা’র দাবি জানিয়ে ছিলাম। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা তা কিছুটা পূরন করলো আরও অধিক প্রণোদনা কৃষি ক্ষেত্রে লাগবে। তাঁরা আশা করেন সমগ্র পরিস্থিতি বিবেচনায় সামনে এটা দেওয়া হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলে বোরোধান পেঁকে গেছে। হাওরে বোরোধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মে: টন। গোটা দেশের লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ। করোনা আতঙ্কে বৃহত্তর রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটা মাড়াই কাজে সেখানে যেতে পারছেনা। ফলে হাওরে চলছে তীব্র মজুর সংকট। ৭-১০ দিনের মধ্যে হাওরে ধানকাটা না গেলে আবহাওয়া বিপর্যয়ে হাওরের পাকাধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো সেখানে ধানকাটা-মাড়াই যন্ত্র সরবরাহ, উত্তরাঞ্চলের কৃষি মজুরদের সরকারি পরিবহনে যাতায়াত, সুরক্ষা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করে তাদের হাওরের বোরা ধানকাটা মাড়াইয়ের কাজে নিয়োগ করা জরুরি। একই সঙ্গে এই কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিও নিশ্চিত করতে হবে। হাওরের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ধান ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার কাজটিকেও পাকাপোক্তভাবে গুরুত্বের সঙ্গে ধরতে হবে। তার আগে সেচ দেয়ার জন্য পানি লাগবে এর ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী মে মাসে গোটাদেশে বোরোধান কাটার মৌসুম শুরু হবে। নেতৃবৃন্দ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষকের স্বার্থে নিম্নোক্ত দাবি পেশ করেনঃ-
১) বোরোধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা ২০ লাখ মে: টনে উন্নীত করা। ধান ক্রয়ে প্রণোদনার বরাদ্দ বাড়ানো, বোরো মৌসুমে ধানের মূল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত। প্রয়োজনে কৃষকের উদ্বৃত্ত ধান সবটাই কিনে নেয়া;
২) গুদাম সংকট নিরসনে অতিরিক্ত গুদাম ভাড়ার কাজটি এক্ষুনি ঠিক করা; কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে কৃষকের কাছেই মজুত রেখে তা চালকল মালিকদের নির্দিষ্ট লাভে প্রদান করা, যাতে তারা চাল বানিয়ে সরকারি গুদামে জমা দেয়, তার ব্যবস্থা করা;
৩) হাস্কিং মিলগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মিল মালিকরা ধান কিনে চাল করে তা সরকারের গুদামে দেবেন, এর মনিটরিং জোরদার করা;
৪) কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারকেই উদ্যোগ নিয়েই যন্ত্রসমূহ “কৃষকের সমবায়” মালিকানায় প্রদান করা;
৫) ‘৮৭-এর ভূমি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্গাচাষিদের বর্গাস্বত্ব প্রদান করা এবং তাদের সমিতিতে সংগঠিত করে কৃষি প্রণোদনার কৃষিঋণ বর্গাচাষিদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা;
৬) প্রতিটি উপজেলায় কৃষিভিত্তিক প্যাডি সাইলো স্থাপন ও সমবায় ভিত্তিতে তা পরিচালনা করা;
৭) খেতমজুরদের নিবন্ধন ও তাদের সারাবছরের কাজ ও মজুরী নির্ধারণ করা। খেতমজুর ও গ্রামিণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য বছরব্যাপী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা;
৮) কৃষি প্রণোদনা’র কর্মকান্ড পরিচালনায় কৃষিঋণ বিতরণ, খাদ্যশস্য ক্রয় এবং কৃষিউপকরণ বিতরণ কমিটিতে প্রতিটি উপজেলায় কার্যকর কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা;
৯) প্রান্তিক, গরীব, মাঝারি ও বর্গাচাষিদের ২% সরল সুদে দানাদার খাদ্যে উৎপাদনে পর্যাপ্ত কৃষিঋণের ব্যবস্থা। কৃষিঋণ বিতরণে ও ধান ক্রয়ে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যস্থাপনা কঠোর হাতে দমন।
১০) মজুত বিরোধী আইনের তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা। মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া-টাউট ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
জাতীয় কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী কর্তৃক প্রেরিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় কৃষক সমিতির কার্যকরী সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, খেতমজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নীলু ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখার প্রয়োজনে কৃষিখাতে কৃষকের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, ‘একই সঙ্গে এই কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিও নিশ্চিত করতে হবে। হাওরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকল কৃষকের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত ধান ন্যায্য মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার কাজটিকেও পাকাপোক্তভাবে গুরুত্বের সঙ্গে ধরতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *