নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনগড়ে তুলতে সারাদেশে সভা-সমাবেশকরার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সারাদেশে সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট।
আজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শুধু সভা সমাবেশ করে বক্তব্য দিলেই হবে না। বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে আমরা ১৪ দলের পক্ষ থেকে দেশের জেলা-উপজেলায় সমাবেশ করবো।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন সত্যের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন। তাই মুজিববর্ষে আমাদের সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে হবে। তাই এই বর্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন কারীদের বিরুদ্ধে আমরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। কোন অশুভ শক্তির কাছে বাঙ্গালী পরাজিত হতে পারে না।’
নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতের সময় সংক্ষিপ্ত করার আহবান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আইনমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানাবো, এই সকল অপরাধীদের চরম দন্ড নিশ্চিত করার জন্য, বিচার প্রক্রিয়ার যে দীর্ঘ সময়ে প্রয়োজন, তা সংক্ষিপ্ত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় সময় দীর্ঘ হলে অপরাধীরা ফাঁক ফোকর দিয়ে বের হয়ে যায়। তাই এই সকল অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা যাবে না।
তিনি বলেন, মুজিব বর্ষে যদি সকল অপশাক্তিকে পরাজিত করতে পারি তাহলেই আমাদের এই বর্ষ পালন স্বার্থক হবে।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, গণআজাদী লীগের নেতা এস কে শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রর নেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভা থেকে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন মোহাম্মদ নাসিম। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১ মার্চ বিকেল ৩ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, ৪ মার্চ বগুড়ায় ও ১০ মার্চ নওগাঁতে নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্জলন করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। মোমবাতি প্রজ্জলন শেষে ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর সড়কের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একই সাথে একই সময়ে এই কর্মসূচি দেশের সকল জেলা ও উপলজেলায় পালন করা হবে। মোহাম্মদ নাসিম এই সকল কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে অংশ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সারাদেশে ১৪ দলীয় জোট ও এর অন্যতম শরীকদল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও অন্যান্য দলগুলোর নেতৃত্বে সভা-সমাবেশ করার অাহবান জানিয়ে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “সরকারের সামনে বড় ও বহুমাত্রিক এক চ্যালেঞ্জের নাম নারী ও শিশু নির্যাতন। যৌন বা শারীরিক নির্যাতন, হয়রানি, হত্যা-অপহরণ, বাল্যবিবাহ—এ সবই নারী-শিশুর সুরক্ষা ও অগ্রযাত্রাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এগুলোর প্রতিরোধ এবং প্রতিকার—দুটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
ধর্ষণ-গণধর্ষণ, ধর্ষণজনিত হত্যা, যৌন হয়রানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা—যৌন নির্যাতনের মাত্রা অনেক। তবে ব্যাপকতা বেশি শারীরিক নির্যাতনের। বাল্যবিবাহ এখনো প্রকট। দূর হয়নি অ্যাসিড-সন্ত্রাস বা যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যা।
একাধিক জরিপ ও গবেষণা আরও বলছে, নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার বেশি হচ্ছে নিজের ঘরে অথবা চেনাজানার গণ্ডিতে। শিশুর সুরক্ষার বিশেষ চ্যালেঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, অপহরণ ও হত্যা।
সুরক্ষার অভাব নারীর এগিয়ে চলার পথ আটকে দিচ্ছে। সহিংসতা প্রতিরোধের কাজটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এর গোড়া পরিবারে, সমাজে বিদ্যমান নারীর প্রতি বৈষম্যের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চাই। পাশাপাশি আসে সহিংসতার প্রতিকারের চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন অাধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *