দেশের প্রথম ‘তারবিহীন নগরী’ হচ্ছে সিলেট : আপাতত ‘লাইফ লাইন’ পেল ইন্টারনেট সংযোগ

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

সিলেট, ০৪ মার্চ ২০২০: সিলেটে আন্ডারগ্রাউন্ড (মাটির নিচে) বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওভারহেড (মাটির উপরস্থ) সকল তার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করার সময় কিছুটা পিছিয়ে নেওয়ায় আপাতত ‘লাইফ লাইন’ পেয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে সিলেট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎসহ সব ধরনের তার এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কথা ছিল। তবে বর্তমানে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে জাতীয় দল সিলেটে থাকায় এই অপসারণ কার্যক্রম পেছানো হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ (রোববার) থেকে শুরু হবে অপসারণ কার্যক্রম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ অঞ্চল সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) প্রবীর কুমার দে। তিনি জানান, ৭ মার্চ পর্যন্ত অপসারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) তারও টিকে আছে। ফলে আপাতত ইন্টারনেট সংযোগ বহালই থাকছে।
গেল কয়েক দিন ধরেই সিলেটে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের শঙ্কার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘‘সিলেটে ৯ দিন পর ‘বন্ধ হচ্ছে’ ইন্টারনেট সংযোগ!’’ এরপরই বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।
জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় বৈদ্যুতিক তার আন্ডারগ্রাউন্ডে (মাটির নিচে) নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রথম ‘তারবিহীন’ নগরী হচ্ছে সিলেট। সম্প্রতি প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকার একটি সড়কে বৈদ্যুতিক তার মাটির নিচে নিয়ে উপরস্থ সকল তার ও খুঁটি অপসারণ করা হয়।
বিপিডিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নগরীর আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই থেকে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও সিটি পয়েন্ট হয়ে সিলেট সার্কিট হাউজ পর্যন্ত, চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে রিকাবীবাজার হয়ে নবাব রোডস্থ বিপিডিবি’র বাগবাড়ি কার্যালয় পর্যন্ত এবং জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে পূর্ব জিন্দাবাজার হয়ে জেলরোড পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক তার মাটির নিচে নেওয়া হয়েছে। মাটির নিচস্থ এসব তারে সংযোগ দেওয়াটাই কেবল বাকি। সংযোগ দিতে উপরস্থ সকল (বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশের) তার ও খুঁটি অপসারণ করবে বিপিডিবি।
জানা গেছে, বিদ্যুতের আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদ্যুতিক তার এবং সরকারি ইন্টারনেট সেবা সংস্থা বিটিসিএলের তারসমূহ মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গেল ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট সিটি করপোরেশন বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উপরোক্ত এলাকাগুলোয় সব ধরনের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশের লাইন অপসারণের ডেড লাইন (সর্বশেষ সময়সীমা) দেয়। তারা ৭ কর্মদিবস তথা ২ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলে, এর মধ্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) এর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলে।
তবে সেই সময়সীমা বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য খানিকটা বাড়িয়ে আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর বিপিডিবি উক্ত এলাকাসমূহে সব ধরনের তার ও খুঁটি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)।
ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কেননা সোমবার পর্যন্ত বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের তার কোন বিকল্প পন্থায় চালু রাখা হবে, এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ফলে আপাতত ইন্টারনেট সংযোগ ‘লাইফ লাইন’ পেলেও ৮ মার্চ থেকে কি হবে, এ নিয়ে উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে গ্রাহকদের।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ অঞ্চল সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) প্রবীর কুমার দে সিলেটভিউকে বলেন, ‘আইএসপির সাথে সোমবার পর্যন্ত কোনো সমাধানে আসা যায়নি। দেখা যাক কি হয়। তাদের সাথে বসা হচ্ছে, সিরিজ বৈঠক হয়েছে, কিন্তু সমাধান আসেনি। তারা যা চায়, আমরা দিতে পারছি না। আমরা যা চাই, তারা দিতে পারছে না।’
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সিসিকের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম।
এ প্রসঙ্গে জানতে জাইলে মো. রুহুল আলম বলেন, ‘আমরা তাদের (বিপিডিবি) পক্ষে, নগরবাসীর স্বার্থে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আমাদের অনুরোধে তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিষয়ে তারা আনঅফিসিয়ালিও আমাদেরকে বলেছে।’
এদিকে, বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেট তারসমূহ অপসারণ না করার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) এসোসিয়েশন। গেল ২৬ ফেব্রুয়ারি তারা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) অ্যাসোসিয়েশন, সিলেটের যুগ্ম আহবায়ক বাহার হোসেন সম্প্রতি বলেন, ‘বিটিআরসির নিয়ম অনুসারে, আমরা মাটির নিচে ইন্টারনেট ক্যাবল নিতে পারি না। একমাত্র যারা এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত, তারাই এটা পারে। সরকারি বিটিসিএল, এনটিটিএন লাইসেন্সধারী সামিট আর ফাইবার অ্যাটম ক্যাবল মাটির নিচে নেওয়ার সুযোগ পায়।’
তিনি জানান, বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য এনটিটিএন, সিটি করপোরেশন, বিপিডিবি সবার সাথে তারা বসেছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।
দেশের প্রথম ‘তারবিহীন’ নগরী করার জন্যই সিলেটে আন্ডারগ্রাউন্ড (মাটির নিচে) বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ওভারহেড (মাটির উপরস্থ) সকল তার (বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশের) ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করাটা যৌক্তিক ও সময়ের দাবি উল্লেখ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “এর মধ্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন)-এর সাথে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *