চাল-ডাল-তেল, পানি-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশ চালায় সিন্ডিকেট : ওয়ার্কার্স পার্টি

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

চাল-ডাল-তেল, পানি-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশ চালায় সিন্ডিকেট। করোনা ভাইরাসের আক্রমনেও দেশ চালায় সিন্ডিকেট তা হলে দেশ সিন্ডিকেট চালায় না সরকার চালায়? করোনা ভাইরাসের আক্রমনের সংবাদে মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াস, হ্যান্ড গ্লাভসসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিলম্বে এই সমস্ত উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর এর উদ্যোগে বুধবার বিকাল ৪টায় বিদ্যুত, পানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং পল্লবীর কালশি বাসস্ট্যান্ড মোড়ে একই সাথে অনুষ্ঠিত দুটি সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায় এর সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড তপন দত্ত কুমার চৌধুরী, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, মহানগর সম্পাদক মন্ডলির সদস্য কমরেড জাহাঙ্গির আলম ফজলু, কমরেড অতুলন দাস আলো। অপর দিকে পল্লবীর কালশি বাসস্ট্যান্ড মোড়ে কমরেড আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর কমিটির সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইন, মহানগর সদস্য কমরেড রফিকুল ইসলাম সুজন, কমরেড তাপস কুমার রায়, কমরেড জামিরুল ইসলাম ডালিম, কমরেড আবুল কালাম, এ্যাড. সুমাইয়া ইসলাম, কমরেড কামরুন নাহার, কমরেড ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, কমরেড ইয়াতুন নেসা রুমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাকে যুক্তিহীন ও একপেশে বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাহার করার দাবী জানান। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিআরসি) কর্তৃক আহুত দফায় দফায় গণশুনানীতে বিদ্যুৎ ভোক্তাদের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর পক্ষে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে যে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা কোনভাবেই খন্ডন করতে পারেনি ‘বিআরসি’ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভোক্তাদের সকল যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে ‘বিআরসি’ গ্রাহক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলো, বিদ্যুতের আরেক দফা এই মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের উপর যেমন আর্থিক চাপ তৈরি হবে, তেমনিউৎপাদিত পণ্য মূল্যও বেড়ে যাবে। বিশেষ করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে জনজীবনের সংকট আরও বৃদ্ধি করবে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে শিল্প উৎপাদন, বিশেষ করে পোশাক খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বাধাগ্রস্ত হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এই অযৌক্তিক বিদ্যুতের মুল্যবৃদ্ধি সরকারকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহবান জানানো হয়।

বিদ্যুৎ-পানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে সারাদেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ সফল করায় দেশব্যাপীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কর্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান। আবার বিদ‌্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের লামামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ যখন নাকাল অবস্থা। স্বল্প আয়ের মানুষ যখন বিপর্যস্ত, তখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগ সমর্থন করা যায় না। অনতিবিলম্বে এ উদ‌্যোগ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি অারও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে ধারাবাহিকভাবে চুরি-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য সাধারণ মানুষ কোনভাবেই মাশুল দিতে পারে না।
তিনি অারও বলেন, বিদ্যুৎখাতের সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধ করা গেলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে দাম কমিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *