খাইছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শ্রীমঙ্গলের ১০টি স্কুলকে জাতীয়করন করা হোক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা ‘

শ্রীমঙ্গল, ০৫ মার্চ ২০২০: “জনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। আর তাই সরকারি উদ্যোগে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হল-হোস্টেল, ল্যাবরেটরি ও পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হবে। ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় আয়ের ন্যূনতম ৮% শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি করছি। শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে পাঠ্য পুস্তক, কাগজ-কলম, পোশাক, খাওয়া-দাওয়াসহ শিক্ষার সমগ্র ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা ও শিক্ষক সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে হবে। খাইছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শ্রীমঙ্গলের আরও ১০টি স্কুল জাতীয়করন করতে হবে।” ৫ মার্চ ২০২০ শ্রীমঙ্গলের ৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আমাদের প্রতিনিধিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান এসব কথা বলেন।

২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি তিন ধাপে করে সরকার। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২২ হাজার ৯২১, দ্বিতীয় ধাপে ১৭১৯টি বিদ্যালয় এবং তৃতীয় ধাপে ৫৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণ করা হয়। তবে এখনো জাতীয়করণ হয়নি এমন প্রাথমিক স্কুল রয়েছে ৪ হাজার ১৫৯টি। যথা সময়ে মাঠপর্যায় থেকে প্রকৃত তথ্য না দেওয়ায় এসব স্কুল জাতীয়করণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। তৃতীয় ধাপে বাদ পড়া শিক্ষকরা সরকারিকরণের দাবিতে গত বছরের ২১ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে ২৬ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। তিন জন সচিবের আশ্বাসে ৭ ফেব্রুয়ারি অনশনের ১৮ দিন পর কর্মসূচি স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যান তারা। কিন্তু এই সময়েও দাবি পূরণের ক্ষেত্রে কোনো সাড়া পাননি শিক্ষকরা।
প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব স্কুল সরকারিকরণের আশায় তৈরি করা হয়েছে। কিছু ২০১৩ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত। একটি বিদ্যালয় সরকারিকরণ করতে হলে ৩৩ শতাংশ জমি ঐ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকতে হয়। সরকারি চাকরির আশায় অনেক বিদ্যালয়ের জমি কেনার টাকা শিক্ষকরাই দিয়েছেন। বাদ পড়া প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ খোকন বলেন, ‘২০১২ সালের ২৭ মের আগে যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী সেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি হওয়ার যোগ্য হবে। কিন্তু যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠানই বাদ পড়েছে। এই বিধির আলোকে যে প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উপযুক্ত হয়, সেগুলোকেই জাতীয়করণের দাবি আমাদের। এই সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, আমরা বিধিমালার বাইরে অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পুরোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৭ হাজার ৬৭২টি। এছাড়া নতুন সরকারি হওয়া স্কুল ২৫ হাজার ২৪০, বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় নতুন সরকারি স্কুল ৬৩৪টি এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয় ৫৫। সব মিলে স্কুলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *