করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চারটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ ওয়ার্কার্স পার্টির

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার”শেখ জুয়েল রানা’

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি চারটি বিষয়ে জরুরি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমে দলটির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিষয়গুলো হলো- ১. দেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের সংখ্যা শতকরা ৮৫%। এরা তাদের আয়ের অর্থ দিয়ে নিজেরাই বাঁচে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকেও সচল রাখে। এই অবস্থান রপ্তানিমুখি শিল্পে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৫০০০ কোটি টাকার তহবিলের মতো এ সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক ও শ্রমজীবিদের জন্য আপৎকালীন বিশেষ তহবিল গঠন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা তাদের মাঝে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা।

২. স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন তা ধরেই বলা যে, কেউই করোনা ভাইরাস রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি দেখাতে চায়না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে- প্রথম থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সনাক্তকরণের বিষয়টি সর্বাপেক্ষা জোর ও তাগিদ দেয়া হলে বাংলাদেশে এখনও এই সনাক্তকরণ পরীক্ষার সংখ্যা কম। আমেরিকা ও ইতালীকে এরই খেসারত দিতে হয়েছে। বাংলাদেশে এখনও বহু করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্তকরণ ছাড়াই মৃত্যুবরণ করছে। এদিকে তাদের দাফন নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে এই সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিএসএমএমইউসহ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল সমূহকে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের অনুমোদন দেয়া। তারা তাদের ফলাফল আইইডিসিআরকে এবং তাদের মাধ্যমে প্রকাশ করবে যাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে। একইভাবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বাস্তবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পরীক্ষা কার্যক্রমকে সক্ষম করা। এক্ষেত্রে কথা ও বাস্তবের ফারাক দুর করা।

৩. করোনা ভাইরাস পরীক্ষা কাজে ইপিডোমিলিজিস্ট ভাইরোলজিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সম্পৃক্ত করা এবং সেভাবে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করে তা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে নিয়ে আসা।

৪. রাজনৈতিক দলগুলোই জনমতের প্রতিনিধিত্বকারী। প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে এই জাতীয় প্রতিরোধে সকল রাজনৈতিক দল, এমপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, বিশেষ করে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে বাঁচাতে তাদের মূল দায়িত্ব নেয়া।

এ সময় দলটি দেশের সকল মানুষকে এগিয়ে এসে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়াও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “গুজব বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধিসহ কোয়ারেন্টাইন মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন হওয়ার অাহবান জানাচ্ছি।
১. পৃথিবীর অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এজন্য অস্থায়ী মেডিকেল পোস্ট স্থাপন ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উচিত।
২. ঢাকা শহরের কিছু হাসপাতাল এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কিছুটা প্রস্তুত হলেও সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য অপ্রতুল। গত বছর ঢাকার বাইরে যেভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার হয়েছে তাতে করে দেশের সবগুলো জেলা শহরে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক হাসপাতাল ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা দরকার। যেহেতু বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিক ও প্রবাসীরা বেশিরভাগ সময়ে সরাসরি গ্রামে চলে যান, তাই তারা যাতে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক সেবা ও পরামর্শ পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর করোনা ভাইরাস বিষয়ক জরুরি তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত প্রচার করা জরুরি। এছাড়াও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে সব রোগীকে ভর্তি করে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পর্যাপ্ত বেড আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নেই। তাই এই ক্ষেত্রে বর্তমানে ক্যানাডার গৃহীত পদক্ষেপ ‘self-isolation’ কার্যকরী হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগী করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে সে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য নিজ ঘরে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এমতাবস্থায়ও প্রয়োজনের সময় তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা দরকার।
৪. সরকার চীনে প্রচুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিসু, টয়লেট পেপার পাঠিয়েছিলো, যা প্রশংসনীয়। নিজের দেশের জনগণও যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান, টিসু, টয়লেট পেপার ইত্যাদি প্রয়োজনের সময় পায়, সেই ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে।
৫. বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে মানুষকে self-isolation, অর্থাৎ নিজের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে বলছে, তাতে করে মানুষ বাজার-ঘাটে কম যেতে চাইবে, এবং ফলশ্রুতিতে জিনিসপত্র কিনে ঘরে রেখে দিতেও চাইবে। সরকারকে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে নিয়মিত হাত ধুলে, ঘরের বাইরে কিছু স্পর্শ না করলে, বা স্পর্শ করে নাক-মুখ-চোখ ধরার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিলে কোন চিন্তা নেই। সেইক্ষেত্রে একবারে একমাসের বাজার করে রাখারও প্রয়োজন নেই। ৬. ইরান বা যুক্তরাজ্যে সরকারের শীর্ষ এমপি, মন্ত্রীরা করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটাকে ভয় হিসেবে না দেখে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের করোনা টেস্ট করে মানুষকে রিপোর্ট জানানো উচিত স্বচ্ছতার খাতিরে। মিডিয়া হাউজগুলোও নিজ উদ্যেগে নিজেদের করোনা টেস্ট করে পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে জানাতে পারে।
৭. এই প্যানডেমিকে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কিন্তু কোনো মুক্তি নেই। তারা চাইলেও নিজেদের self-isolation এ নিতে পারবেন না, যেমনটি পারেননি ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও। তাই ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা কিংবা জনস্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন, আস্থা রাখুন। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। তারা যাতে নিজেদের অসহায়বোধ না করেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *