করোনা প্রতিরোধে শ্রমজীবী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটাইজার বিতরণ শুরু করেছে ছাত্র ইউনিয়ন

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

ঢাকা, ১৭ মার্চ ২০২০: সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ। করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পণ্যসমূহ শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে স্যানিটাইজার, মাস্ক বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুনির চৌধুরী অডিটোরিয়ামে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির প্রকল্প চালু করেছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, করোনা মহামারী প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য আমাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ প্রকল্প এরই মধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি এবং শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিতরণও শুরু হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান এই প্রকল্পের জন্য তারা গণ-অর্থায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য তারা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। যদি পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যায় তাহলে জেলায় জেলায় এই প্রকল্প চালু করা হবে। সকলের সচেতনতায় এবং সহযোগিতায় বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

অর্থ পাঠানোর মাধ্যম
বিক্যাশ-০১৭১৬৫৯৯৫৮৯ (পার্সোনাল)
নগদ-০১৯৭১১০৪০৭৭ (পার্সোনাল)
বিক্যাশ-০১৭৮৪৯৮৩৫৭৭ (পার্সোনাল)
রকেট-০১৭৮৪৯৮৩৫৭৭১ (পার্সোনাল)
ব্যাংক একাউন্ট-০১০০০৩৫৯২৫৭৪ (বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জনতা ব্যাংক, ঢাবি শাখা)

করোনা প্রতিরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির প্রকল্প চালু ও শ্রমজীবী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ শুরু করায় ছাত্রইউনিয়নকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “গুজব বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন হওয়ার অাহবান জানাচ্ছি।
১. পৃথিবীর অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের জন্য বিমানবন্দরের চাইতেও অনেক ক্ষেত্রে স্থল ও নৌবন্দরগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কেননা আমদানি-রপ্তানির জন্য আমরা এই বন্দরগুলো বেশি ব্যবহার করে থাকি। সুতরাং বিমানবন্দরে নজরদারি জারি রাখার পাশাপাশি স্থল ও নৌবন্দরগুলোতে সরকারের অস্থায়ী মেডিকেল পোস্ট স্থাপন ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উচিত।
২. ঢাকা শহরের কিছু হাসপাতাল এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কিছুটা প্রস্তুত হলেও সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য অপ্রতুল। গত বছর ঢাকার বাইরে যেভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার হয়েছে তাতে করে দেশের সবগুলো জেলা শহরে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক হাসপাতাল ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা দরকার। যেহেতু বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিক ও প্রবাসীরা বেশিরভাগ সময়ে সরাসরি গ্রামে চলে যান, তাই তারা যাতে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক সেবা ও পরামর্শ পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর করোনা ভাইরাস বিষয়ক জরুরি তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত প্রচার করা জরুরি। এছাড়াও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে সব রোগীকে ভর্তি করে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পর্যাপ্ত বেড আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নেই। তাই এই ক্ষেত্রে বর্তমানে ক্যানাডার গৃহীত পদক্ষেপ ‘self-isolation’ কার্যকরী হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগী করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে সে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য নিজ ঘরে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এমতাবস্থায়ও প্রয়োজনের সময় তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা দরকার।
৪. সরকার চীনে প্রচুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিসু, টয়লেট পেপার পাঠিয়েছিলো, যা প্রশংসনীয়। নিজের দেশের জনগণও যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান, টিসু, টয়লেট পেপার ইত্যাদি প্রয়োজনের সময় পায়, সেই ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে।
৫. বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দেশের সরকার যেভাবে মানুষকে self-isolation, অর্থাৎ নিজের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে বলছে, তাতে করে মানুষ বাজার-ঘাটে কম যেতে চাইবে, এবং ফলশ্রুতিতে জিনিসপত্র কিনে ঘরে রেখে দিতেও চাইবে। সরকারকে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে নিয়মিত হাত ধুলে, ঘরের বাইরে কিছু স্পর্শ না করলে, বা স্পর্শ করে নাক-মুখ-চোখ ধরার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিলে কোন চিন্তা নেই। সেইক্ষেত্রে একবারে একমাসের বাজার করে রাখারও প্রয়োজন নেই। ৬. ইরান বা যুক্তরাজ্যে সরকারের শীর্ষ এমপি, মন্ত্রীরা করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন। এটাকে ভয় হিসেবে না দেখে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের করোনা টেস্ট করে মানুষকে রিপোর্ট জানানো উচিত স্বচ্ছতার খাতিরে। মিডিয়া হাউজগুলোও নিজ উদ্যেগে নিজেদের করোনা টেস্ট করে পত্রিকার মাধ্যমে মানুষকে জানাতে পারে।
৭. এই প্যানডেমিকে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কিন্তু কোনো মুক্তি নেই। তারা চাইলেও নিজেদের self-isolation এ নিতে পারবেন না, যেমনটি পারেননি ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও। তাই ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা কিংবা জনস্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন, আস্থা রাখুন। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। তারা যাতে নিজেদের অসহায়বোধ না করেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *