করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় আগামী ৭দিন বিশেষ সতর্কতার আহ্বান সৈয়দ আমিরুজ্জামানের

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

মৌলভীবাজার, ০২ এপ্রিল ২০২০: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বর্তমানে লকডাউন হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে এক কঠিন সময় পার করছে সারা দুনিয়ার মানুষ। ছোঁয়াচে হওয়ায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে এর সংখ্যা।
দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ দিনকে দিন বাড়ছে। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির মধ্যে আগামী সাতদিন সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষ সকর্তকতা অবলম্বন ও ঘরে থাকার জন্য মৌলভীবাজারবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমন সংকটময় সময়ে সবাইকে ধৈর্য্য ধরে সাহসিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো একযোগে কাজ করা।
আপনারা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করুন যাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে না যায়। আসুন আমরা বাড়িতে নিজেকে আইসোলেশনে রেখে সবাইকে নিরাপদ রাখি। বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন।
এই ৭দিন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে করণীয় তুলে ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জননেতা কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। আমাদের যতদূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে অবস্থান করা যাবে না। অবশ্যই আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যারা করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, সেসব প্রবাসী ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের হোম কোয়ারেন্টিনে বা বাড়িতে সঙ্গ-নিরোধসহ সরকারি যেসব নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। মাত্র ১৪দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন।
করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর মেশিন ইতোমধ্যে চলে এসেছে। মেসিনটি বসানোর কাজ সম্পন্ন করে পরীক্ষার কাজ চলছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও আনা হয়েছে। এই মুহূর্তে সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন হলে আরও চিকিৎসা সরঞ্জাম ঢাকা থেকে আনা হবে। আশা করছি, চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করবেন। এ সময় তিনি মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের সকল জনগণকে আবারও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর করোনা ভাইরাস বিষয়ক জরুরি তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত প্রচার করা জরুরি। এছাড়াও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে সব রোগীকে ভর্তি করে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পর্যাপ্ত বেড আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নেই। তাই এই ক্ষেত্রে বর্তমানে ক্যানাডার গৃহীত পদক্ষেপ ‘self-isolation’ কার্যকরী হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগী করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে সে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ১৪ দিনের জন্য নিজ ঘরে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এমতাবস্থায়ও প্রয়োজনের সময় তৎক্ষণাৎ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা দরকার।
সরকার চীনে প্রচুর হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিসু, টয়লেট পেপার পাঠিয়েছিলো, যা প্রশংসনীয়। নিজের দেশের জনগণও যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান, টিসু, টয়লেট পেপার ইত্যাদি প্রয়োজনের সময় পায়, সেই ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *