করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীন বাকি বিশ্বের জন্য আশার আলো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা’

ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০২০: করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীন আশার আলো জ্বেলেছ বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে চীনের কৌশল অন্য দেশগুলোয় ব্যবহার করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর বেলায়।
এএফপির খবরে জানানো হয়, চীনে গত চার দিনে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত একজন রোগী পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ চীনের আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার তথ্য নিয়ে সতর্ক করেছেন, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেইয়েসুস চীনের সফলতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের সফলতা বাকি বিশ্বের জন্য আশার আলো দিচ্ছে।
চীন কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত একদলীয় ও বাজারভিত্তিক সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার এমন দেশ, যেখানে সমাজতন্ত্র বিরোধী ভিন্নমতের স্থান নেই এবং যেকোনো ইস্যুতে বিপুল পরিমাণের সম্পদ, লোকবলে রাতারাতি পরিবর্তন ঘটাতে পারে। চীনের যেসব বিষয় আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে অবরুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, মাস্ক পরিধান, গণকোয়ারেন্টিন, সংহতি ইত্যাদি।
অবরোধ ও নিয়ন্ত্রণ: গত জানুয়ারি মাসে চীন উহান শহরকে কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে এবং এর ১ কোটি ১১ লাখ জনসংখ্যাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। এই প্রক্রিয়া পরে অনুসরণ করা হয় পুরো হুবেই প্রদেশের জন্য। পাঁচ কোটি মানুষকে গণ–আইসোলেশনে পাঠায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে কঠোরভাবে বাড়িতে থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়।
গণসংহতি: পিকিং ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ের অধ্যাপক ঝেং জিজিই বলেছেন, হুবেই প্রদেশে কমপক্ষে ৪২ হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হুবেই প্রদেশে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য। এ সময় ৩ হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হন এবং ১৩ জন মারা যান।
মাস্ক ও সতর্কতা: শহরগুলোয় মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। অধ্যাপক ঝেংজিজিই বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভাইরাসটি বহনের আশঙ্কার মধ্যে ব্যাপক হারে মাস্ক ব্যবহার ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে পারে।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবর অনুসারে চীন প্রতিদিন ১৬ লাখ মাস্ক উৎপাদন করেছে ওই সময়।
উচ্চপ্রযুক্তির দেশটিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি যেখানে সীমিত, সেখানে কোনো কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের জন্য ফোনে কিউআর কোড দেখানোর ব্যবস্থা করে। যেটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতির ভিত্তিতে তাদের ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ এবং ‘লাল’ চিহ্ন দেখায়। এর মাধ্যমে নাগরিকদের দেখানো হয়, তাঁরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাচ্ছেন কিনা।

করোনা ভাইরাস চিকিৎসা সহায়তায় চীনের পরিপূর্ণ সাহায্য চাওয়া জরুরী : ওয়ার্কার্স পার্টি

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই মুহুর্তে যেমন ‘সঙ্গনিরোধ’ সহ অন্যান্য ‘প্রতিরোধমূলক’ উদ্যোগ দরকার তেমনি চিকিৎসা প্রযুক্তিগত সহায়তা বেশী জরুরী। সমসাময়িক সময়ে চীন তাদের দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা লাভ করেছে। চীন ও কিউবা ইতেমধ্যে সংকটপূর্ণ দেশ ইতালী এবং ইরানে তাদের চিকিৎসা প্রযুক্তিসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের দল পাঠিয়েছে। করোনা আক্রান্ত অন্যান্য দেশসমূহ চীন মডেলকে ব্যবহার করছে, বাংলাদেশের চিকিৎসা অবকাঠামোগত নানান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হলে চীনের প্রত্যক্ষ সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের আহবানে চীন চিকিৎসা সরঞ্জাম সহ একটি বিশেষ টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চীনা সরকারের এই সহযোগিতাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে- পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা খাতকে জরুরি ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসহ প্রত্যক্ষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আরো চীনা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সাহায্য চাওয়া উচিত হবে।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এই মুহুর্তে যেমন ‘সঙ্গনিরোধ’সহ অন্যান্য ‘প্রতিরোধমূলক’ উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা খাতকে জরুরি ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসহ প্রত্যক্ষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য স্বল্পকালীন সময়ের জন্য আরো চীনা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসা সামগ্রী সাহায্য চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *