উপাচার্য অপসারণ ধর্মঘটে অস্থিতিশীল জাবি

Spread the love

দূর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবির চলমান আন্দোলনে দিন দিন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গত তিন মাস ধরে চলমান এই আন্দোলনের দুটি পক্ষের কেউই কাউকে ছাড় না দেয়ায় এখনও পর্যন্ত কোন স্থায়ী সমাধান আসেনি।

এদিকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচীর আজ ষষ্ঠ এবং সর্বাত্মক ধর্মঘটের চতুর্থ দিন। গতকালের দিনব্যাপী ধর্মঘট কর্মসূচীতে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বন্ধ ছিল প্রশাসনিক কার্যক্রম। ব্যাহত হয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম।

গতকালের কর্মসূচী শেষে আজকের কর্মসূচী সম্পর্কে আন্দোলনের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন রলেন, ‘উপাচার্য অপসারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সঙ্গে সঙ্গে আগামী শুক্র ও শনিবার সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামও এই ধর্মঘটের আওতাধীন থাকবে। তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ,পানি ও চিকিৎসা সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে।’

গতকাল উপাচার্য অপসারণ আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী এক নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থীকে এক সহকারী প্রক্টর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল’র নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল। উল্টো তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ এর পূর্ব নিধারিত পদযাত্রা কর্মসূচী থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।

আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে সমাবেশে আন্দোলনকারীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা চরম নিন্দনীয়। এর দ্বারা বুঝা যায় উপাচার্য তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে কিভাবে স্বৈরাচারীভাবে ক্যাম্পাস শাসন করছেন। আমরা এরকম একজন মাস্তান শিক্ষক ও তার পৃষ্ঠপোষকতাকারী উপাচার্যকে চাই না।’

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘শিক্ষক কর্তৃক কোন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। এ ঘটনায় শৈবাল স্যার নিজেও আহত হয়েছেন। তিনি এখন সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।’

প্রসঙ্গত, জাবিতে চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে গত তিন মাস যাবত আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *