আহমদ রেজা খান বেরেলি (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম

Spread the love

মানব জাতি যখন আল্লাহ রব্বুল আলামিনের নির্দেশিত, তাঁর প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  প্রদর্শিত, সাহাবায়ে কিরামের রূপরেখা থেকে বিচ্যুত হয়ে আল্লাহর একাত্মবাদের পরিবর্তে দ্বিত্ব-ত্রিত্ববাদ উপাসনায় লিপ্ত হয়ে যায়; সর্বস্তরে কোরআন-সুন্নাহর বিপরীতে মানুষ কুফর-শিরক-বিদাত, কুসংস্কার ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপে নিমজ্জিত হয়ে যায় তখনই দিগ্ভ্রান্ত মানুষকে সঠিক পথনির্দেশনার লক্ষ্যে মহান আল্লাহ শতাব্দীর পরিক্রমায় একেকজন মুজাদ্দিদ বা দীনের সংস্কারক পাঠান।

এ সম্পর্কে প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন যিনি দীনকে নতুনভাবে সংস্কার করবেন।’ আবু দাউদ, জামিউস সগির।

এমনই একজন মুজাদ্দিদ হলেন মাওলানা আহমদ রেজা খান বেরেলি (রহ.)। তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ। ভারতবর্ষে আরব আজমে তিনি যুগের অদ্বিতীয় জ্ঞানী-মনীষী, আইনবিশারদ, হাদিসবিদ, তাফসিরকারক। তার জন্ম ১০ শাওয়াল, ১২৭২ হিজরি, ১৪ জুন, ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ, ভারতের বেরেলি শহরে। পিতা মাওলানা নকি আলী খান ও মাতা হোসাইনি খানম। প্রাতিষ্ঠানিক ও আল্লাহ-প্রদত্ত জ্ঞানে তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী। বহুমুখী প্রতিভা, অনন্য স্মরণশক্তির অধিকারী আহমদ রেজা খান ইলমে কোরআন, হাদিস, তাজবিদ, দর্শন, অঙ্কশাস্ত্র, প্রকৌশলবিদ্যা, মাজহাব-তরিকতসহ ৫৫-এর অধিক বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন।

তিনি পবিত্র রমজানে শুনে শুনেই আল কোরআনের হাফেজ হয়েছিলেন। ইসলামের খেদমতে তিনি কোরআনের তাফসির ‘কানজুল ইমান’, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে নাতে রসুল ‘হাদায়েকে বখশিশ’, ইলমে ফিকহের ৩০ খন্ডের অন্যতম গ্রন্থ ফাতওয়ায়ে রিজভিয়াসহ প্রায় দেড় হাজার কিতাব রচনা করেন। শিক্ষকতার মহান পেশায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক স্ত্রী, সাত সন্তানের জনক।

পবিত্র হজের সফরে হিজাজবাসী আলেমরা তাকে প্রাণঢালা সম্মান প্রদর্শন করেন। হুসসামুল হেরমাইন, আদদৌলাতুল মক্কিয়াহ কিতাবে তার বর্ণনা পাওয়া যায়। আহমদ রেজা (রহ.) সম্পর্কে মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেন, ‘আমার যদি সুযোগ হতো, তাহলে আমি আহমদ রেজা খান বেরেলির পেছনে নামাজ পড়ে নিতাম।’ উসউয়া-ই-আকাবির।

ইসলামের এই সেবক  ২৫ সফর, ১৩৪০ হিজরি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯২১ সালে জুমাবার বেরেলি শহরে ইন্তেকাল করেন। দারুল উলুম মানজারুল ইসলামের উত্তর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চাসনে আসীন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *