আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা চালু ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার” শেখ জুয়েল রানা

রাজশাহী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০: “সকল আদিবাসী শিশুদের জন্য প্রাথমিক স্তরে নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের” দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার বেলা ১১টায় আদিবাসী ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজ নিজ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে বিদ্যালয়গুলোতে আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের জোর দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন উত্তরাঞ্চলের আদিবাসী শিশুদের জন্য সাদরি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তা আদিবাসী শিশুদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের পিছনে রেখে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আদিবাসীদের মাতৃভাষাগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান বক্তারা।

আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম, সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রতিশ টপ্য, অর্থ সম্পাদক অনিল রবিদাস, দপ্তর সম্পাদক পলাশ পাহান প্রমূখ।
এছাড়াও সংহতি বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট প্রশান্ত কুমার সাহা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাজশাহী জেলা সভাপতি শাহাজাহান আলী বরজাহান, ন্যাপ রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, সহ-সাধারণ সম্পাদক গনেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কেন্দ্রীয় সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক উপেন রবিদাস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নিয়ামতপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত মুন্ডা, নবজাগরন ছাত্র সমাজের উপদেষ্টা তামিম সিরাজী প্রমূখ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে অামাদের প্রতিনিধিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “সকল আদিবাসী শিশুদের জন্য প্রাথমিক স্তরে নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগের দাবিটি যৌক্তিক। এ বিষয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে প্রথম দফায় ৫টি মাতৃভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং পড়াশোনা শুরুর উদ্যোগ নেয়। প্রথম দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা এবং সমতলের সাদরি ও গারো- এই পাঁচ ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ৫টি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *